শনিবার ৩০ আগষ্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
আইন

বিচার বিভাগের প্রতিষ্ঠানগত স্বাধীনতা একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নয়: প্রধান বিচারপতি

আলোর বার্তা ডেস্ক ১০ আগষ্ট ২০২৫ ১০:২৩ পি.এম

 প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ  প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ

 প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগের প্রতিষ্ঠানগত স্বাধীনতার দাবি কোনোভাবেই একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নয়। যারা এ বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাদের এ আশঙ্কা ভিত্তিহীন। প্রয়াত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সেলিব্রেটিং দ্য লাইফ অ্যান্ড লিগেসি অব এ জে মোহাম্মদ আলী’ শীর্ষক এই স্মরণসভাটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ জে মোহাম্মদ আলী অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস আয়োজন করে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের সাংবিধানিক ইতিহাসে এমন কোনো উদাহরণ নেই, যেখানে বিচার বিভাগ এককভাবে রাষ্ট্রের ওপর কর্তৃত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। বরং অতীতে এমন কিছু সময় এসেছে, যখন দুর্বল ও নমনীয় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর সমঝোতায় গিয়েছিল। এই সময়গুলোতে সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে, যা মূলত একটি অনৈতিক জোটের ফল ছিল।

সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় গঠনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, এটি বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের দাবি এবং এই বিতর্ককে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যের আলোকে দেখতে হবে। তিনি জানান, গত ৫০ বছরে মর্যাদা ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ সব সময় নির্বাহী ও আইন বিভাগের তুলনায় পিছিয়ে থেকেছে। অনেক সময়ে বিচার বিভাগই ছিল রাষ্ট্রের একমাত্র কার্যকর অঙ্গ, তারপরও কখনও তারা রাষ্ট্রের প্রধান বা প্রভাবশালী অঙ্গ হয়ে ওঠেনি।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিচার বিভাগকে শক্তিশালী, স্বাধীন এবং মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। তবে এর জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রীয় অঙ্গের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রয়োজন নেই। তিনি যুক্তরাজ্যের ২০০৫ সালের কনস্টিটিউশনাল রিফর্ম অ্যাক্টের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এটি এমন একটি মডেল যা ক্ষমতার পৃথকীকরণ নিশ্চিত করেছে, কিন্তু একইসঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতাও বজায় রেখেছে।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা মানে হলো রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা, আধিপত্য বিস্তার নয়। এজন্য একটি স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি, যা বিচার বিভাগের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করবে।

অনুষ্ঠানে হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. শরীফ উদ্দিন চাকলাদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।


এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

news image

বিচার বিভাগের প্রতিষ্ঠানগত স্বাধীনতা একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নয়: প্রধান বিচারপতি

news image

প্রধান বিচারপতির সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

news image

বিচার বিভাগকে স্বতন্ত্রীকরণে কাউন্সিল গঠনের দারপ্রান্তে

news image

উপদেষ্টার মৃত্যুতে প্রধান বিচারপতির শোক

news image

জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান বিচারপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

news image

রাষ্ট্রপতির সাথে নবনিযুক্ত বিচারপতিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

news image

প্রধান বিচারপতির সাথে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

news image

জুডিশিয়াল এপোয়েনমেন্ট কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব

news image

সুপ্রিম কোর্টের হটলাইন নাম্বার চালু : পাওয়া যাচ্ছে আইনি সহায়তা

news image

সাবেক বিচারপতির মৃত্যুতে প্রধান বিচারপতির শোক

news image

ছুটিতে পাঠানো বিচারকদের ফিরিয়ে আনতে লিগ্যাল নোটিশ

news image

রিজিওনাল কনফারেন্সের কি - নোট স্পিকার বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি

news image

৭০ হাজার টাকার বিমানভাড়া হজ্ব প্যাকেজে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা

news image

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা নিয়ে যা বললো সিনিয়র আইনজীবীরা